শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন
বাঙালি প্রাণে যখন লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। সে ছোঁয়ায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে তিনব্যাপী ব্যতিক্রমী ফাগুন উৎসবের আয়োজন করছে ভাওয়াল ক্লাব। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রাত নটায় কেরানীগঞ্জের আটি ভাওয়াল স্কুল মাঠে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ। এতে ভাওয়াল ক্লাবের সভাপতি ও তারানগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ও নাট্যজন মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, একটি জাতির সংস্কৃতি বাস করে দেশের জনগণের হৃদয় ও আত্মার মাঝে। বাঙালি জাতিকে এগিয়ে আসতে হবে নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায়। নিজ দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য নষ্ট হয় এমন ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি ফিরে পেতে গ্রহণ করতে হবে কিছু পদক্ষেপ। নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে হাজার বছরের পুরোনো সেই সংস্কৃতিকে। বছরের বিভিন্ন সময় আয়োজন করতে হবে সেসব উৎসবের। তবেই আস্তে আস্তে বাঙালি ফিরে পাবে তার ঐতিহ্য এবং স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হবে জাতি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন টেক্সট বুক বোর্ডের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সন্তোষ ঢালী, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী, বাস্তা ইউপি চেয়ারম্যান আশকর আলী, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল বারেক প্রমুখ।
উৎসবটি নিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, কেরানিগঞ্জে সঙ্গীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হকের বাড়ি। তিনি বেঁচে থাকতে এখানে নানা ধরনের উৎসব হতো। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আমরা ফাল্গুন উৎসবের মধ্য দিয়ে আবারও সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এই আয়োজন করেছি। আয়োজনের তিনদিন নানা ধরনের গান ও নাচ পরিবেশিত হবে। ভাওয়াল ক্লাবের পক্ষ থেকে ২০২৩ সালে একুশে পদকপ্রাপ্ত দুজন এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত একজনকে সম্মাননা দেওয়ারও আয়োজন করা হয়েছে। আশা করছি আগামীতেও আমরা এই আয়োজন চালিয়ে যেতে পারবো।
ফাল্গুন উৎসব ১৪২৯’র প্রথম দিনে (২ মার্চ) উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন সাদিয়া ইসলাম মৌ ও তার দল। এদিন সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে অভিনয় ও কণ্ঠশিল্পী শিমুল ইউসুফকে। প্রাচ্যনাটের মঞ্চনাটক ‘সার্কাস সার্কাস’র মঞ্চায়িত হয়। সবশেষে গান শোনান চন্দনা মজুমদার।
দ্বিতীয় দিন (৩ মার্চ) উপজেলার নালন্দা বিদ্যালয়ের বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে র্যাচেল পেরিসের নৃত্য, তানভীর আলম সজীবের নজরুল সংগীত, ফারহিন খান জয়িতার রবীন্দ্র সংগীত ও ব্যান্ড ‘চিরকুট’র গান পরিবেশন হয়। মাঝে সম্মাননা প্রদান করা হয় অভিনেতা ও বাচিক শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়কে।
এবং শেষ দিনের (৪ মার্চ) প্রথম পরিবেশনায় থাকবেন কেরানীগঞ্জের স্থানীয় শিল্পীরা। সম্মাননা দেওয়া হবে সদ্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে। এরপর ব্যান্ড ‘মিজান অ্যান্ড ব্রাদার্স’র পারফর্মেন্স এবং শেষে ফোকসম্রাজ্ঞী মমতাজের গানে সমাপ্তি ঘটবে উৎসবের।
আয়োজকরা জানান, উৎসবটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই যে কেউ চাইলেই এখানে অংশ নিতে পারবেন, উপভোগ করতে পারবেন নাচ-গানের নান্দনিক পরিবেশনা।